মুশফিকুর রহিম: নিবেদনের আরেক নাম, বিদায় বললেন ওয়ানডেকে

মুশফিকুর রহিম: নিবেদনের আরেক নাম, বিদায় বললেন ওয়ানডেকে
বিশেষ প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন। ১৯ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের নিবেদন, পরিশ্রম ও একাগ্রতার জন্য যিনি বারবার আলোচনায় এসেছেন, সেই মুশফিক এবার শেষবারের মতো নেমেছিলেন ৫০ ওভারের ফরম্যাটে।
ফেসবুক, ইউটিউব বা যে কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুললেই মুশফিকের নিবেদনের গল্প দেখা যায়। অনুশীলনে দলের অন্যদের চেয়ে ঘণ্টা দুয়েক আগে পৌঁছানো যেন তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। দলের ছুটির দিনেও মাঠে ছুটে যেতেন তিনি।সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নিবেদন হাস্যরসের বিষয় হয়ে উঠেছিল অনেকের কাছে। কেউ কেউ বলতেন, “এত অনুশীলন করেও মাঠে জেতাতে না পারলে লাভ কী?” কিন্তু ক্রিকেট বুঝে এমন কেউ নেই যে জানে না, এই নিবেদনই মুশফিককে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান বানিয়েছে।ওয়ানডেতে ২৭৪ ম্যাচ খেলে ৩৭.৩৩ গড়ে ৭ হাজারের বেশি রান করা মুশফিক ছিলেন দলের ব্যাটিং ভরসা। তাঁর বিদায়ের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ভক্তদের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত লিখেছেন, “আপনার খেলাটার প্রতি নিবেদন আমাদের জন্য আদর্শ, অনেক প্রজন্মকে তা অনুপ্রেরণা জোগাবে।”শেষ সময়টা সহজ ছিল না তাঁর জন্য। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ব্যর্থতার পর থেকেই সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হতে হয়েছিল তাঁকে। অবসরের ঘোষণা দিয়ে মুশফিক লিখেছেন, “গত কয়েকটা সপ্তাহ আমারতবে তাঁর বিদায়ে সতীর্থরা সম্মান জানাতে ভোলেননি। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মাঠে নেমে মোহামেডানের সতীর্থদের কাছ থেকে গার্ড অব অনার পেয়েছেন মুশফিক।ওয়ানডে ছাড়লেও টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে খেলা চালিয়ে যাবেন মুশফিক। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, ক্রিকেটের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও নিবেদন অব্যাহত থাকবে। মাঠের বাইরেও নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে চাইবেন এই নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার।মুশফিকুর রহিমের বিদায় মানে শুধু একজন ক্রিকেটারের প্রস্থান নয়, বরং এক অধ্যায়ের সমাপ্তি। তবে তাঁর নিবেদন ও পরিশ্রমের গল্প থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার আছে—এ কথা অনস্বীকার্য।