ফসিলসের সাবেক সদস্য চন্দ্রমৌলি বিশ্বাস আর নেই

ফসিলসের সাবেক সদস্য চন্দ্রমৌলি বিশ্বাস আর নেই
বিশেষ প্রতিবেদক
পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় বাংলা ব্যান্ড ফসিলসের সাবেক সদস্য চন্দ্রমৌলি বিশ্বাস আর নেই। গতকাল রোববার (১২ জানুয়ারি) কলকাতার ওয়েলিংটন এলাকায় নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তাঁর ঝুলন্ত দেহ। কলকাতা পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে ধারণা করছে। তবে মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। চন্দ্রমৌলির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।চন্দ্রমৌলি বিশ্বাসের বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর। দীর্ঘ ১৮ বছর তিনি ফসিলস ব্যান্ডের সদস্য ছিলেন (২০০০–২০১৮)। পরে তিনি ‘গোলক’ নামে নতুন একটি ব্যান্ড গঠন করেন এবং সর্বশেষ এই দলেই যুক্ত ছিলেন। দলের একজন সদস্য তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়ে দ্রুত পুলিশকে খবর দেন।ব্যান্ডের একজন সদস্য জানান, সম্প্রতি তাঁরা একটি মিউজিক ভিডিওর কাজ শেষ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘নতুন শুরু করলাম, মিউজিক ভিডিও শেষ হলো। কিন্তু এ রকম কিছু ঘটবে, তা ভাবতেই পারিনি।’চন্দ্রমৌলির পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর সময় বাসায় উপস্থিত ছিলেন না। এই সময়ে কী এমন ঘটেছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গতকাল চন্দ্রমৌলি তাঁর ফেসবুক প্রোফাইল ছবি বদলেছিলেন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কেন তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে পুলিশ উত্তর খুঁজছে।ফসিলসের প্রধান গায়ক রূপম ইসলাম চন্দ্রমৌলির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘চন্দ্রমৌলির সঙ্গে আমার গত বছর পর্যন্ত যোগাযোগ ছিল। নানান দার্শনিক বিষয়ে কথা হতো। কিছু গান নিয়ে বসার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু আর কোনো দিন তা সম্ভব হবে না, এটা ভেবে খুব খারাপ লাগছে।’চন্দ্রমৌলি বিশ্বাসের মিউজিক ক্যারিয়ার ছিল সমৃদ্ধ। ফসিলস ব্যান্ডের সঙ্গে তিনি বহু জনপ্রিয় গানে অংশ নিয়েছেন। তবে ব্যান্ড ছাড়ার পর তাঁর জীবন আলাদা পথে চলছিল। নতুন ব্যান্ড ‘গোলক’-এর কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি হয়তো মানসিক চাপে ছিলেন।চন্দ্রমৌলির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পশ্চিমবঙ্গের সংগীত দুনিয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর সহকর্মী ও ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেছেন। সংগীত জগতের অনেকেই বলেছেন, চন্দ্রমৌলির মতো প্রতিভার চলে যাওয়া সংগীতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।