টিউলিপ সিদ্দিকের বসবাসকৃত ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে বিতর্ক

টিউলিপ সিদ্দিকের বসবাসকৃত ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে বিতর্ক
বিশেষ প্রতিবেদক
লন্ডনের হ্যাম্পস্টিড এলাকায় টিউলিপ সিদ্দিক যে ফ্ল্যাটে কয়েক বছর বসবাস করেছেন, সেটি কেনা হয়েছিল ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে নিবন্ধিত একটি অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে। কর ফাঁকির জন্য পরিচিত এই কর আশ্রয়স্থল থেকে পরিচালিত কোম্পানিটির নাম ছিল পেডরক ভেঞ্চারস। এই কোম্পানির মালিক ছিলেন বাংলাদেশের দুই ব্যবসায়ী—নাসিম আলী ও মাসুদ আলী।২০০০ সালে পেডরক ভেঞ্চারস ২ লাখ ৪৩ হাজার পাউন্ডে ফ্ল্যাটটি কিনেছিল। পরে পেডরক ভেঞ্চারস অন্য একটি অফশোর কোম্পানি, হারবার্টন এস এ-এর মালিকানায় চলে যায়। ২০০৫ সালে হারবার্টন এস এ বন্ধ করে দিয়ে ফ্ল্যাটটির মালিকানা উপহার হিসেবে মঈন গনি নামে এক বাংলাদেশি আইনজীবীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।মঈন গনি পরে ফ্ল্যাটটি ২০০৯ সালে টিউলিপ সিদ্দিকের বোন আজমিনা সিদ্দিককে উপহার দেন। তখন আজমিনার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর এবং তাঁর কোনো আয়-রোজগার ছিল না। আজমিনা ২০১৭ সালে ৬ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডে ফ্ল্যাটটি বিক্রি করেন।পেডরক ভেঞ্চারস এবং হারবার্টন এস এ-এর সঙ্গে নাসিম আলী ও মাসুদ আলীর সংশ্লিষ্টতা পানামা পেপারসসহ বিভিন্ন নথিতে উঠে এসেছে। ঢাকার একটি কোম্পানি শ্যামলিমা লিমিটেডের মালিকানা এই দুই ব্যক্তির। শ্যামলিমা লিমিটেড বাংলাদেশে জ্বালানি তেল কোম্পানিগুলোকে সেবা দিয়ে থাকে এবং তাদের সরকারি সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্ট।টিউলিপ সিদ্দিক জানিয়েছেন, ফ্ল্যাটটি তাঁর বোন আজমিনার নামে ছিল এবং এ বিষয়ে তাঁর বোনের সঙ্গে কথা বলা উচিত। তবে আজমিনা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এই সম্পত্তি কেনা ও হস্তান্তর নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠলেও নাসিম আলী, মাসুদ আলী এবং মঈন গনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়নি।এই ঘটনাটি কর ফাঁকি ও অফশোর কোম্পানির ব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। বিষয়টি এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর বাকি রেখে গেছে।