চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ির ধাক্কায় বিপর্যস্ত জেনারেল মোটরসসহ পশ্চিমা গাড়ি কোম্পানিগুলো

চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ির ধাক্কায় বিপর্যস্ত জেনারেল মোটরসসহ পশ্চিমা গাড়ি কোম্পানিগুলো
বিশেষ প্রতিবেদক
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গাড়ি কোম্পানি জেনারেল মোটরস (জিএম) চীনের বাজারে ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কয়েক দশক আগে যেখানে চীনের বাজার থেকে তাদের মুনাফা ছিল সবচেয়ে বেশি, এখন সেখানে লোকসানের বোঝা বাড়ছে।সদ্য বিদায়ী ২০২৪ সালের প্রথম নয় মাসে জিএমের গাড়ি বিক্রি চীনে কমেছে ১৯ শতাংশ। চীনের বাজারে যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত জিএমের কারখানা গত বছর ৩৪৭ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি করেছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চীনের বাজারের নানা সমস্যার কারণে তাদের মোট আয় ৫০০ কোটি ডলার কমতে পারে।চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) বাজারে দেশীয় কোম্পানিগুলো ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। স্থানীয় কোম্পানিগুলো ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড প্লাগ-ইন গাড়ি তৈরি করছে, যা বিদেশি গাড়ি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে।চীনের বাজারে বর্তমানে বিক্রি হওয়া ৭০ শতাংশ গাড়ি স্থানীয় কোম্পানিগুলোর।পাঁচ বছর আগে এ হার ছিল মাত্র ৩৮ শতাংশ।চীনের বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই জিএমসহ অন্যান্য কোম্পানিগুলো যৌথ উদ্যোগে কাজ করছে। কিন্তু স্থানীয় বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির জনপ্রিয়তা এবং চীনা কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।ইউরোপীয় কোম্পানি স্টেলানটিস ২০২২ সালে চীনের বাজার থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে।ফোর্ড এখনো মুনাফা করছে, তবে তাদের বিক্রির বড় অংশ দক্ষিণ আমেরিকা ও এশিয়ার অন্যান্য বাজার থেকে আসে।বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে চীনা সরকার ক্রেতাদের জন্য ভর্তুকি, করছাড় এবং অন্যান্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছে। পুরোনো গাড়ি বদলিয়ে পরিবেশবান্ধব গাড়ি কিনতে চীনা ক্রেতারা ২,৮০০ ডলার পর্যন্ত ভর্তুকি পাচ্ছেন।বিশ্লেষকদের মতে, জিএমসহ পশ্চিমা কোম্পানিগুলো আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে চীনের বাজার ছাড়তে বাধ্য হতে পারে। জিএমের চীনে অংশীদারি থাকা কোম্পানি সাইক (SAIC)-এর সঙ্গে চুক্তি ২০২৭ সালে শেষ হচ্ছে। তবে এই অংশীদারি আর বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।চীনের গাড়িশিল্পের দ্রুত প্রবৃদ্ধি পশ্চিমা বিশ্বে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাষ্ট্র চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি করেছে। তবে চীনা ব্র্যান্ডগুলো আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশ করছে, যা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করছে।চীনে মানুষের মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের গাড়ি কেনার রুচি পরিবর্তিত হয়েছে। দেশীয় গাড়ি কোম্পানিগুলো এই পরিবর্তনকে কাজে লাগিয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে প্রভাব বিস্তার করছে। ফলে পশ্চিমা গাড়ি কোম্পানিগুলোর জন্য চীনের বাজারে টিকে থাকা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।