ইলন মাস্কের স্টারলিংক বাংলাদেশে: ইন্টারনেট শাটডাউনের অবসান?

সময়: 6:56 am - February 25, 2025 | | পঠিত হয়েছে: 65 বার

বিশেষ প্রতিবেদক

ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫: বাংলাদেশে ইন্টারনেট সেবার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক বাংলাদেশে তাদের স্যাটেলাইটভিত্তিক দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা চালু করতে যাচ্ছে।

সরকারের আমন্ত্রণ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ১৩ ফেব্রুয়ারি ইলন মাস্কের সঙ্গে ভিডিও কলে আলোচনা করেন। এই আলোচনায় স্টারলিংকের সম্ভাব্য কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র এবং ইন্টারনেট সেবার প্রসারে স্টারলিংকের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জাতীয় উন্নয়নে স্টারলিংকের অবদান নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে অধ্যাপক ইউনূস ইলন মাস্ককে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, যা মাস্ক ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন।স্টারলিংক ও ইন্টারনেট শাটডাউন অতীতে বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে ইন্টারনেট শাটডাউনের কারণে লাখো ফ্রিল্যান্সার ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমান সরকার এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে স্টারলিংকের কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। স্টারলিংক চালু হলে ভবিষ্যতে কোনো সরকারই সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করতে পারবে না, যা দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এক বিপ্লব ঘটাবে।দুর্গম এলাকায় ইন্টারনেট বিস্তার প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টারলিংক চালু হলে দেশের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে গ্রাম ও শহরের মধ্যে ইন্টারনেট সেবার পার্থক্য দূর হবে এবং দেশজুড়ে ডিজিটাল সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে।স্টারলিংক কীভাবে কাজ করে? স্টারলিংক সাবমেরিন কেবলের পরিবর্তে কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে। ব্যবহারকারীদের জন্য একটি অ্যানটেনা, রাউটার ও পাওয়ার সাপ্লাইসহ একটি স্টারলিংক কিট সরবরাহ করা হয়। এই ডিভাইস পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা স্টারলিংক স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে। বর্তমানে স্টারলিংকের ৬,৯৯৪টি স্যাটেলাইট পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অবস্থান করছে।গতি ও খরচ স্টারলিংকের ইন্টারনেট গতি ২৫ থেকে ২২০ এমবিপিএস পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত ব্যবহারকারীরা ১০০ এমবিপিএসের বেশি গতি পান। আপলোডের গতি ৫ থেকে ২০ এমবিপিএসের মধ্যে থাকে। তবে এই সেবার জন্য সরঞ্জাম ও মাসিক ফি গুনতে হবে।স্টারলিংকের কিটের মূল্য ৩৪৯ থেকে ৫৯৯ ডলার (প্রায় ৪৩ থেকে ৭৪ হাজার টাকা)। মাসিক ফি ১২০ ডলার (প্রায় ১৫ হাজার টাকা)। করপোরেট গ্রাহকদের জন্য এই খরচ আরও বেশি হতে পারে।ভবিষ্যতের সম্ভাবনা বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যক্তিরা মনে করছেন, স্টারলিংক এলে দেশের ডিজিটাল উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সার, বিপিও খাত এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।ইলন মাস্কের বাংলাদেশ সফরের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো দেশ। স্টারলিংক চালু হলে দেশের ইন্টারনেট খাতে যে আমূল পরিবর্তন আসবে, তা ভবিষ্যতে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর